স্মৃতিসৌধে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা

khaleda-sreetisode_81176


মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

আজ রোববার সকাল সোয়া নয়টার পর খালেদা জিয়া জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মী।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্মৃতিসৌধে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র উদ্ধারে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলন সফল হতে হবে।

এর আগে সকাল সোয়া নয়টার দিকে স্মৃতিসৌধ এলাকায় আসেন খালেদা জিয়া। এ সময় দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া।

 

সিডর/রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭ ইংরেজি

সিলেটে বিধ্বংসী ব্যবস্থা নিয়ে জঙ্গিদের অবস্থান

সিলেটে বিধ্বংসী ব্যবস্থা নিয়ে জঙ্গিদের অবস্থান


সিলেটে বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে জঙ্গিরা অবস্থান করছেন। আতিয়া মহলে প্রবেশের  প্রতিটি গেটে শক্তিশালী বিস্ফোরক লাগিয়ে রেখেছে জঙ্গিরা। এ থেকেই বোঝা যায়, সিলেটে জঙ্গিদের শক্তিশালী গোছানো অবস্থান রয়েছে। আতিয়া মহলের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছে জঙ্গিরা। ভবনের নিচে বাঙ্কারে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ নিয়ে তারা অবস্থান করছে।
এতে করে ভবনের ভিতরে ঢুকতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। জঙ্গিরা এখন পর্যন্ত ১০টি গ্রেনেড ও ৫ থেকে ৬টি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এছাড়া সিলেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর  অভিযান প্রতিহত করতে জঙ্গিরা ভয়াবহ কৌশল নিয়েছে। একদল জঙ্গি আস্তানায়, আরেকদল বাইরে অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে উত্সুক জনতার মধ্যে ঢুকে দুই দফা হামলা চালিয়েছে। এতে ৩ জন নিহত ও দুই র‌্যাব সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুরো ভবন সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ঘিরে রেখেছে। অন্যদিকে ভবনের চারপাশ এলাকায় আরেক স্তরে সেনাবাহিনী ঘিরে রেখেছে। আতিয়া মহল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে এলাকাটি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব-পুলিশ। এর মধ্যদিয়ে অনেক দূরে অবস্থান নেওয়া উত্সুক জনতার মাঝে রাত সাড়ে ৮টা দিকে আরেক দফা আত্মঘাতী হামলা হয়েছে। জঙ্গিদের পরিকল্পনা ছিল সোয়াতসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আক্রমণ করলে তারা বাইরে থেকে আক্রমণ করত। এই এলাকার আশপাশে আরো জঙ্গিদের অবস্থান রয়েছে বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে।
এদিকে সিলেট মহানগরের শিববাড়ির ‘আতিয়া মহল’-এর জঙ্গি আস্তানায় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোর চালানো অভিযান ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ অব্যাহত রয়েছে। কখন এ অভিযান শেষ হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে এর আগেই ভবন থেকে সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল ৭৮ জন বেসামরিক লোককে উদ্ধার করে। ভবনের সঙ্গে মই বেঁধে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও ২১ শিশু রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিরা ওই ভবনে বসবাসরত বাসিন্দাদের জিম্মি করে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নিতে চেয়েছিল। কিন্তু কমান্ডোদের ত্বরিত হস্তক্ষেপের কারণে তারা সেই সুযোগ পায়নি।
লোকালয়ে জঙ্গিদের এমন শক্তিশালী অবস্থান ভাবিয়ে তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। জঙ্গিদের মাইকে আত্মসমর্পণের আহবান জানালেও তারা আত্মসমর্পণ করেনি। ৫ তলা বিশিষ্ট আতিয়া মহলে ৩০টি ফ্ল্যাটে ১৫০টি কক্ষ রয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশিদুল হাসান জানান, ভবনটির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বসবাসকারী ৭৮ জন বেসামরিক লোককে নিরাপদে উদ্ধার করে আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সেনা কমাণ্ডোরা চেষ্টা করছেন জঙ্গিদের জীবিত অবস্থায় গ্রেফতার করতে।
জঙ্গিরা বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জমা করেছিল। তারা বিস্ফোরক দিয়ে কমান্ডোদের প্রবেশে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। এজন্য অপারেশনটি অনেক সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হচ্ছে। জঙ্গিদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তাই অনেক সময় লাগছে। ধারণা করা হচ্ছে আতিয়া মহলের নিচতলার বাঙ্কারে ৫/৭ জন জঙ্গি থাকতে পারে। অভিযানে অংশ নেওয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
হঠাত্ করেই আবার আগ্রাসী হয়ে উঠেছে জঙ্গিরা। গত জুলাইয়ে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্টুরেন্টে হামলার পর দেশব্যাপী জঙ্গি বিরোধী কঠোর অভিযানে নামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। মিরপুরের রূপনগর কল্যাণপুর, আজিমপুর এবং নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট একের পর এক জঙ্গি আস্তানায় হানা দিয়ে জঙ্গিদের গ্রেফতার করে। ওই অভিযানে নিহত হয় শীর্ষস্থানীয় বহু জঙ্গি। এতকিছুর পরও জঙ্গিদের তত্পরতা থেমে নেই। সমপ্রতি যেসব হামলা হয়েছে তার বেশিরভাগ হামলাই হয়েছে পুলিশের উপর।
সমপ্রতি কুমিল্লায় বাস থেকে নেমে দুই জঙ্গি পুলিশের উপর বোমা হামলা শুরু করে। এর আগে টঙ্গিতে মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নিতে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালানো হয়। তার আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর গোদাগাড়িতে পুলিশ কনস্টেবলদের ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে জঙ্গিরা।

 

সিডর/রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭ ইংরেজি

সিলেটে বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে আইএসের কোন সম্পর্ক নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেটে বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে আইএসের কোন সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


দেশব্যাপী আলোচিত সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের মধ্যে গতকালের বিস্ফোরণের সঙ্গে আইএসের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বলিনি জঙ্গি নির্মূল হয়েছে। আমরা বলেছি জঙ্গিরা আমাদের কন্ট্রোলে রয়েছে। সিলেটের শিববাড়িতে প্যারা কমান্ডো বাহিনীর অভিযানের মধ্যে সংঘঠিত বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে আইএসের কোনো সম্পর্ক নেই। দেশে আইএসের কোনো সদস্যকে ধরার সৌভাগ্য এখনো আমাদের হয়নি।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রবিবার সকালে রাজধানীর বাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সিলেটের শিববাড়ির সেই জঙ্গি আস্তানার বাইরে জঙ্গিরা বোমা রেখে যেতে পারে। সারা দেশ চষে বেড়িয়েছি। দেশের কোথাও আইএস শনাক্ত করার সৌভাগ্য হয়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোনো নেতাই আইএসের অনুসন্ধান দিতে পারেননি। আমরা যদি আইএস শনাক্ত করতে পারতাম তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিতাম।
সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় বড় কোনো জঙ্গি নেতা রয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো অভিযান চলছে, অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে মনে হচ্ছে বড় কোনো নেতা থাকতে পারেন।
সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া,  র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল জলিল মণ্ডল ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) এর কর্মকর্তারা।

 

সিডর/রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭ ইংরেজি

বিপথগামীদের সৎ পথে ফিরে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

1490500106


বিপথগামীদের সৎ পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে সন্ত্রাস-মাদক-জঙ্গিবাদ কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। আত্মঘাতী হওয়া মহাপাপ। আজ যারা বিপথে যাচ্ছে, তারা যেন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, আত্মহননের পথ যেন বেছে না নেয়।’
রবিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মহান স্বাধীনতা দিবসে শিশু-কিশোর সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী এসময় শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা বাবা-মায়ের কথা শুনবে, শিক্ষক-অভিভাবকদের কথা শুনবে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকে জড়াবে না।’

 

সিডর/রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭ ইংরেজি

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

111a5a0c9af57367b6eec3d6e2b51cdf-58d70e20a01b7


মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার সকাল ৬টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এরপর প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তাঁরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন৷ এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। এ সময় মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সেনা, নৌ ও বিমান- তিন বাহিনীর প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

 

সিডর/রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭ ইংরেজি

দুই দফা জঙ্গি হামলায় পুলিশসহ নিহত ৪

1490466403


সিলেটে রুদ্ধশ্বাস কমান্ডো অভিযান চলছে গুলি-বোমায় প্রকম্পিত এলাকা, আহত অর্ধশত, ৭৮ জন জীবিত উদ্ধার
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকায় জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহল’ ঘিরে গুলি-বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সেনা কমান্ডোদের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো চলে। অভিযানে সেনাবাহিনী, সোয়াত, পুলিশ, র্যাব সদস্যরা অংশ নিচ্ছে। ৭৮ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলের পাশেই জঙ্গিরা দু’দফা হামলা চালিয়েছে। এতে একজন পুলিশসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। প্রথম হামলায় মোটরসাইকেল আরোহীর ঘটানো বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় দফা হামলায় আরো দুইজন নিহত হন । দুটি হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আকতারুজ্জামান বসুনিয়া এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিহতদের একজনের নাম আবু কাউসার। তিনি সিটি এসবির পরিদর্শক। নিহত আরেকজনের পরিচয় জানা গেছে, তিনি কলেজছাত্র অহিদুল ইসলাম অপু। অপরজনের পরিচয় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।  সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এবং পুলিশ ও সোয়াতের সহায়তায় চলা ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্রিফিং করা হয়। ব্রিফিং শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ব্রিফিংস্থলের কাছে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাংবাদিকসহ ৩০ জনের বেশি আহত হন। এরপর রাত সাতটা ৫৫ মিনিটের দিকে আগের ঘটনাস্থলের কাছে পূর্ব পাঠানতলা মসজিদ এলাকায় আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ হয়। পুলিশসহ ৪২ জনকে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি মোটরসাইকেলে করে দু’জন এসে বিস্ফোরণ ঘটালে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রুকনুদ্দিন বলেন, লাশগুলো সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছে অবিস্ফোরিত একটি বোমা ও মোটর সাইকেল উদ্ধার করেছে। এর আগে ব্রিফিংয়ে গত দুদিন থেকে বহুল আলোচিত সিলেটের শিববাড়িতে অপারেশন অব্যাহত রয়েছে বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় অভিযানে অংশ নেওয়া সেনা সদস্যদের পক্ষ থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল হাসান সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

এর আগে গত শুক্রবার ভোর ৩ টায় আতিয়া মহলকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখে কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের সদস্যরা। পরে এসে যোগ দেয় সোয়াত ও সেনাবাহিনীর কমান্ডো সদস্যরা। তবে ভেতরে কতজন জঙ্গি অবস্থান করছে সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি। তারা জীবিত না মারা গেছে এমন তথ্যও বলেননি অভিযানকারীরা।

গতকাল শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাড়ে ৩৮ ঘন্টা অতিবাহিত হয়েছে। সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত অভিযান চলছিল। অভিযান কালে দফায় দফায় প্রচন্ড গুলি ও বিষ্ফোরণের শব্দে এলাকা প্রকম্পিত হয়। বিকাল ৪টা ৫৬ মিনিট থেকে পর পর ৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর দু’জন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সদস্য আহত অবস্থায় বের হয়ে আসছেন বলে জানায় স্থানীয়সূত্র। এর আগে বেলা ৩টায় গোলাগুলির সময় এলাকার বসিন্দা শিপলু নামের একজন আহত হয়ে ওসমানীতে ভর্তি হয়েছেন। সকালেও গুলি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, তারা আতংকের মধ্যে সময় পার করছেন। ঘটনাস্থলে মিডিয়া কর্মীদেরও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে সেখানের সঠিক চিত্র জানা যাচ্ছে না। কর্মকর্তারা নিজ নিজ দায়িত্বে ব্যস্ত। তারাও কিছু বলছেন না।

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই জঙ্গি অভিযানের দ্বিতীয় দিন গতকাল সকাল থেকে ৮ ঘন্টার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি যেন আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বেলা সোয়া ৩ টার দিকে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে মোড় নেয়। মুহুর্মুহু গুলি ও পরে বিস্ফোরণের শব্ধে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় চারদিক। চুড়ান্ত  অভিযানের আগে বেলা সোয়া ২ টার দিকে আতিয়া মহল এর দুটি ভবন থেকে সর্বশেষ ৩ জন গর্ভবতী মহিলাসহ ৭৮ জন বাসিন্দাকে সেখান থেকে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়। পরে কমান্ডোরা চূড়ান্ত আঘাত হানে।

সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের লে. কর্নেল ইমরুল কায়েস এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সার্বিক তত্বাবদানে রয়েছেন এই ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তরাও ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আতিয়া মহলের মালিক উস্তার আলী গতকাল বিকালে জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে দুপুরে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গিয়েছিলেন বাড়িতে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার কর্যক্রমে সহায়তা করতে। তখন জানালা দিয়ে জঙ্গিরা গ্রেনেড ছুড়ে এবং বিকট শব্ধ হয়।  এর আগে বার বার ‘আতিয়া মহল’ এর ভিতরে অবস্থানরত  জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের জন্য বলা হয়; কিন্তু তারা তা গ্রাহ্য করেনি।

এদিকে গতকাল সকাল থেকেই ওই এলাকার সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক বন্ধ করে দিয়ে ঘটনা স্থল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে সরিয়ে দেয়া হয় উপস্থিত লোকজনদের। আশপাশের বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়। গতকাল সকাল ৮টার দিকে সেনা কমান্ডোরা সেখানকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সকাল সোয় ৯ টায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা মূল ভবনের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়। দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি পাঠানপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের জন্য সেনাবাহিনীর চারটি বুলেট প্রুফ আর্মার ভেহিক্যাল সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ রোডের শিববাড়ি রাস্তার মুখে এগুলো অবস্থান নেয়। সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো ইউনিটের সদস্যদের সাথে  সোয়াতও আছে।

সূত্র জানায়, অপরেশন ‘টোয়াইলাইট’-এর প্রথম লক্ষ্য জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আভিযানের আগে আতিয়া মহল-১ ও আতিয়া মহল-২ দুটি ভবনে আটকে থাকা অবশিষ্টদের নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে আসা। কিন্তু  উদ্ধারে নামার পর পর শুরু হয়ে যায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি। সেই সঙ্গে বজ্রপাত। এতে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে এরাই মধ্যে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ভবনে আটকে থাকাদের সম্পর্কেও খোঁজ খবর নেয় এবং উদ্ধার তত্পরতা অব্যাহত রাখে। বেলা ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সর্বমোট ৭৮ জন বসিন্দাকে ভবন দুটি থেকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দীন সকালে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আতিয়া মহল সেনা কমান্ডোদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা অভিযান শুরু করেছেন।’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার পাঠানপাড়া সড়কের পাশে অবস্থিত পাঁচতলা ও চারতলাবিশিষ্ট দুটি ভবনের নাম আতিয়া মহল। সিলেট নগরীর আতিয়া ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির বাসিন্দা উস্তার মিয়া। এই বাড়িতে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে এমন সন্দেহে  শুক্রবার ভোর রাত থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে ঢাকা থেকে আসা কাউন্টার টেরিজম ইউনিটের সদস্যরাসহ পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। শুক্রবারও  দিনভর হ্যান্ডমাইকে করে বারবার সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। তবে এতে সাড়া মেলেনি। প্রতুত্তরে তারা পুলিশকে ‘শয়তানের দল’  উল্লেখ করে বলে, ‘আমরা আল্লার পথে আছি। প্রয়োজনে জীবন দেব।’

শনিবার সকালে অভিযান শুরুর আগে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, অ্যাম্বুলেন্স, র্যাব পুলিশের গাড়ি, ফায়ারসার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি সেখানে উপস্থিত রয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে আতিয়া মহলে জঙ্গিদের ভবনের বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভবন মালিক জানিয়েছেন, পাঁচ তলা ভবনটিতে ৩০টি ফ্ল্যাটে মোট ২৮টি পরিবার ভাড়া থাকেন। এই ভবনের নিচ তলার একটি ফ্ল্যাট গত জানুয়ারি মাসে প্রাণ কোমপানির অডিট অফিসার পরিচয়ে কাওসার আহমদ ও মর্জিনা বেগম দমপতি। ওই ‘আতিয়া মহল’কে ঘিরেই চলছে দুদিনব্যাপী এই অভিযান। পুলিশের ধারণা,  নারীসহ একাধিক জঙ্গি রয়েছে ফ্ল্যাটের ভিতরে।

 

সিডর/রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭ ইংরেজি

গুগল ডুডলে স্বাধীনতা দিবস

Untitled-2


গত বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গুগল সার্চ (অনুসন্ধান) ইঞ্জিনে ডুডল প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে সবুজের মধ্যে সাদা হরফে গুগল লেখা এবং মাঝখানে লাল-সবুজরে পোশাক পরা এক শিশু বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে দৌড়াচ্ছে।

ইংরেজি গুগল (Google) শব্দের তৃতীয় বর্ণ ‘o’কে লাল বৃত্ত করে দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে সেই শিশুকে লাল-সবুজের পতাকা হাতে দেখা যাচ্ছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পরেই সার্চ ইঞ্জিনটি এটি চালু করেছে, যা ২৬ মার্চ দিনব্যাপী থাকবে।

এর আগে গত বছরের স্বাধীনতা দিবসেও গুগল ডুডল দেখানো হয়। মূলত ২০১৩ সালের স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশ নিয়ে প্রথম ডুডল প্রদর্শন করে গুগল। এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ, খেলাধূলাসহ বিভিন্ন উপলক্ষে এমন উদ্যোগ নেয় গুগল কর্তৃপক্ষ।

ডুডল- অর্থাৎ বিশেষ নকশা বা চিত্রের মধ্য দিয়ে কোনো বিষয় ফুটিয়ে তোলাকে বোঝায়। বিশেষ দিনে বা অন্য কোনো উপলক্ষে সার্চ ইঞ্জিনটির হোম পেজে বিশেষ প্রদর্শন করা হয়

 

সিডর/রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭ ইংরেজি

প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলংকাকে ৯০ রানে হারাল বাংলাদেশ

Bd-Te1


স্বাধীনতা দিবসের সেরা উপহার দিল টাইগাররা

তেমন কোনো উত্সব নেই, উল্লাস নেই।

বাংলাদেশ যেনো বলে কয়ে হারালো শ্রীলঙ্কাকে। সময়টা কতো বদলে গেছে, তারই প্রমাণ দিয়ে এক সময়ের পরাশক্তি শ্রীলঙ্কাকে স্রেফ গুড়িয়ে দিলো নতুন পরাশক্তি হয়ে ওঠা বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে, ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকদের ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

আগে ব্যাট করা বাংলাদেশকে জয়ের মঞ্চে তুলে দিয়ে গিয়েছিলেন সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল এবং ফিফটি করা সাকিব ও সাব্বির। তাদের কল্যানে ৩২৪ রান করেছিলো বাংলাদেশ। জবাবে শ্রীলঙ্কা ৪৫.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়।

শ্রীলঙ্কা জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায়। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ইনিংসের প্রথম ওভারেই মেইডেন ও উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দেন, অকল্পনীয় কিছু করতে পারছে না লঙ্কানরা। ষষ্ঠ ওভারে কুশল মেন্ডিসকে ফেরত পাঠান মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর দিনেশ চান্দিমাল বাকীদের নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টাই বিফলে যায়।

চান্দিমাল শেষ অবধি আউট হওয়ার আগে ৫৯ রান করেছেন। তাকেও ফিরিয়েছেন মিরাজ। আবার শেষ দিকে এসে একটা পাল্টা আক্রমনের চেষ্টা করেছিলেন থিসারা পেরেরা। এর মধ্যে মুস্তাফিজ ও মাশরাফি যার যার দ্বিতীয় উইকেটও তুলে নিয়েছেন। পরে মুস্তাফিজ নিজের তৃতীয় উইকেট নেওয়ার ভেতর দিয়ে অলআউট করেন শ্রীলঙ্কাকে।

ডাম্বুলার এই রনগিরি স্টেডিয়ামে গতকালকের আগ পর্যন্ত তিন শ রানের ওপরে স্কোর হয়েছে মাত্র দু বার। দুই বারই বাংলাদেশের বিপক্ষে স্কোর দুটি হয়েছে। এখানে কখনোই কোনো দল তিন শ রান তাড়া করে জেতেনি। কার্যত শ্রীলঙ্কার মাটিতেই তিন শ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই।

ফলে বাংলাদেশ যখন আগে ব্যাট করে ৩২৪ রান করলো, তখনই ম্যাচের ফলাফল অনেকটা বোঝা হয়ে গেছে।  এই ৩২৪ রান করার ভেতর দিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম তিন শতাধিক রান, তথা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও করে ফেললো। এর আগে ২০০৬ সালে মোহালিতে এই দলটির বিপক্ষে ২৬৫ রান করেছিলো হাবিবুল বাশারের দল; গতকালকের আগ পর্যন্ত সেটাই ছিলো সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশকে উড়ন্ত একটা সূচনা এনে দিতে চেয়েছিলেন তামিম ও সৌম্য সরকার। কিন্তু সৌম্য মাত্র ১০ রান করে ফিরে যান। এই ধাক্কাটা অবশ্য টের পেতে দেননি সাব্বির রহমান রুম্মন। তিনি তামিমের সাথে ৯০ রানের এক জুটি করেন। ৫৬ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে আউট হন সাব্বির।

এই সময় জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। পরের ওভারেই মাত্র ১ রান করে ফিরে যান মুশফিক। এরপরই শুরু হয় দিনের সেরা আকর্ষন তামিম ও সাকিব জুটি। সাকিব ও তামিমই বাংলাদেশকে রান পাহাড়ে তুলে নিয়ে যেতে থাকেন। ২৩.৪ ওভার ব্যাটিং করেছেন দু জনে। যোগ করেছেন ওভারপ্রতি ৬.০৮ করে রান। মোট এসেছে ১৪৪ রান।

সাকিব ৭১ বলে ৭২ রানের পরিণত, দায়িত্বশীল ও দেখার মতো ইনিংস খেলে ফেরেন। আর তামিম টিকে থাকেন ৪৮তম ওভার পর্যন্ত। এর মাঝে উইকেটে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তামিম, সৈকত ও পরে মাহমুদউল্লাহ; শেষ পাচ ৬ ওভারে রীতিমতো তান্ডব চালান। এই ৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৮৩ রান!

তামিম ১৪২ বলে ১৫টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ১২৭ রান করে ফেরেন। আর সৈকত ৯ বলে ২৪ ও রিয়াদ ৭ বলে ১৩ রানের ঝড় তুলে অপরাজিত থাকেন।

 

সিডর/রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭ ইংরেজি

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস


আজ ২৬ মার্চ। বাঙালির শৃঙ্খল মুক্তির দিন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল। বিশ্বের বুকে স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন তার চূড়ান্ত পরিণতি। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনার সেই গৌরব ও অহঙ্কারের দৃপ্ত শপথের দিন আজ। ভয়াল ‘কালরাত্রি’র পোড়া কাঠ, লাশ আর জননীর কান্না নিয়ে রক্তে রাঙা নতুন সূর্য উঠেছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। ভীতবিহ্বল মানুষ দেখল লাশপোড়া ভোর। সারি সারি স্বজনের মৃতদেহ। আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়া। পুড়ছে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র আঁকা লাল সবুজ পতাকা। জ্বলছে শাড়ি, খুকুর ফ্রক। চোখে জল। বুকে আগুন। জ্বলে উঠল মুক্তিকামী মানুষের চোখ, গড়ল প্রতিরোধ। মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে ‘জয় বাংলা’ তীব্র স্লোগান তুলে ট্যাংকের সামনে এগিয়ে দিল সাহসী বুক। আজ থেকে ৪৬ বছর আগের ঠিক এমনি এক ভোররাতে পাক বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার বঙ্গবন্ধুর ডাকে জীবনপণ সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি। ঘোরতর ওই অমানিশা ভেদ করেই দেশের আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার চিরভাস্বর সূর্য। বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু হয়েছিল একাত্তরের আজকের এই দিনে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহার্ঘ স্বাধীনতার ৪৬তম বার্ষিকী।

১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বাংলার মানুষের ভোটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার আড়ালে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহার কারণে বাংলার মুক্তকামী মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ২৫ শে মার্চ কালরাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারাদেশে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করে। মধ্যরাতেই অর্থাত্ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু ভবন) থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইপিআরের ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ডাক দেন।

চট্টগ্রামে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জহুর আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার বাণী সেই রাতেই সাইক্লোস্টাইল করে শহরবাসীর মধ্যে বিলির ব্যবস্থা করেন। পরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত বিবৃতিটি সর্বপ্রথম পাঠ করেন আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান। এরপর ২৭ শে মার্চ তত্কালীন মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ রবিবার মহান স্বাধীনতা দিবসটি পালন করা হবে। সব ভবনে ও শহরের প্রধান সড়কগুলোতে উড়বে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা। সকালে ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে দলমত নির্বিশেষে সেখানে হাজির হবে লাখো মানুষ। ভোর ৬টায় রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণের পরই সাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আজ সরকারি ছুটির দিন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির বাণী

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীসহ প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। পরম শ্রদ্ধার সাথে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করে নানা চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতন্ত্র, শান্তি ও উন্নয়নকামী। তারা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদসহ কোনো ধরনের সহিংসতা সমর্থন করে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশকে ‘সোনার বাংলা’য় পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণে বর্তমান সরকার ‘ভিশন ২০২১’ ও ‘ভিশন ২০৪১’ ঘোষণা করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে এ জাতি অর্জন করেছে প্রিয় স্বাধীনতা। তিনি স্মরণ করেন ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোন, জাতীয় চার নেতাকে। তিনি বলেন, সম্মান জানাই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে। যাঁরা স্বজন হারিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তাঁদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই সকল বন্ধুরাষ্ট্র, সংগঠন ও ব্যক্তির প্রতি, যাঁরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অকৃপণ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

বিরোধী দলীয় নেতার বাণী

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী সকল বীর সন্তানদের গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

জাতীয় পার্টির (জেপি) শুভেচ্ছা

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম ৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরমধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে অবসান ঘটে পরাধীনতার ক্লেশ ও গ্লানির। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে বাঙালি জাতির যে স্বাধীনতা সূর্য অস্ত গিয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা আবার উদিত হয় জাতির আকাশে, অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে এক নতুন রাষ্ট্রের, প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির নিজস্ব আবাস ভূমি। আজকের এই দিনে আমরা তাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসায় স্মরণ করি সেই সব অকুতভয় বীর সন্তানদের; যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিল। একই সঙ্গে স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান; যারা লড়াই করে দেশকে হানাদারমুক্ত করেছিল। আমরা স্মরণ করি নির্যাতিত মা বোনদের আর দেশবাসীর অমূল্য অবদানকে।

কর্মসূচি

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সকল সরকারি-আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দর এলাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ রবিবার সূর্যোদয়ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এছাড়া দিবসটি স্মরণে আওয়ামী লীগ আগামী আগামীকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন।

জেপির কর্মসূচি

মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে আজ রবিবার সকাল পৌনে ৭টায় জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় ও সকল দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং সকাল ৯টায় সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পূষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। আগামী ২৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গণহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে জেপি। সভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম. হারুন-অর-রশিদসহ অন্য মুক্তিযোদ্ধাগণ।

 

সিডর/রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭ ইংরেজি