A Latest Crime Report Bengali Newspaper
রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এসআইসহ তিন পুলিশের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ

বাগেরহাট_26904


বাগেরহাটের শরণখোলায় পুলিশের এক এসআই ও দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। শরণখোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে গৃহবধূ ফাতেমা জানান, ১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় শরণখোলা থানার এসআই সফিউদ্দিন ও দুই কনস্টেবল ফরিদ হোসেন ও কবির হোসেন তাদের বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন ওই গ্রামের মহারাজ হাওলাদার, লিপন সরকার, ইসমাইল হাওলাদার, আবু হানিফ, জলিল হাওলাদার, জাকির হাওলাদার, শাসসুল হক ও রুহুল আমিন। তারা দরজা না খোলায় পুলিশ সদস্যসহ ওই ব্যক্তিরা ঘরের সামনের ও পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ফাতেমার স্বামী মিন্টু হাওলাদারকে বেঁধে মারধর ও আসবাব তছনছ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে আসে এবং শরণখোলা থানার ওসিকে ফোনে ডাকাতির ঘটনা জানায়। এ সময় পুলিশ ও তার সহযোগীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন উপজেলার জানেরপাড় গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম। তিনি বলেন, ডাকাতির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নিজেকে বাঁচাতে ওই এসআই এক নারীর মাধ্যমে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের মামলা করেছেন।

ফাতেমা বেগম জানান, লিখিত অভিযোগ নিয়ে ১৫ ডিসেম্বর মামলা করতে শরণখোলা থানায় গেলে ওসি মামলা নেয়নি। অথচ ঘটনার দু’দিন পর ১৬ ডিসেম্বর উপজেলার খাদা গ্রামের শফিকুল হাওলাদারের স্ত্রী সালমা বেগমকে কথিত বাদী বানিয়ে তার স্বামী মিন্টুসহ ছয়জনকে আসামি করে নারী পাচারের হয়রানিমূলক একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। জানতে চাইলে এসআই সফিউদ্দিন জানান, তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ থাকায় আমরা ওই বাড়িতে অভিযান চালাই। শরণখোলা থানার ওসি শাহ আলম মিয়া ঘটনাটি ডাকাতির অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। এসআই সফিউদ্দিনকে তিনি পাঠিয়েছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে খাদা গ্রামের ইউপি সদস্য বাবুল আকন জানান, তাদের গ্রামে সালমা বেগম নামে কেউ থাকেন না। এরপর মামলার কপি থেকে বাদী সালমা বেগমের নম্বরে ফোন করা হলে তিনি তার দায়ের করা মামলার কোনো আসামির নাম বলতে পারেননি। এসআই সফিউদ্দিন সব বলতে পারবেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন মোল্যা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে জানেরপাড় গ্রামের ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান, গ্রাম পুলিশ পান্না মোল্লা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাম সিপাই জানান, বিষয়টি শুনে তারা ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভাঙা দেখেন এবং বাড়ির মানুষ ও এলাকাবাসীর কাছে ডাকাতির ঘটনা জানতে পারেন।