A Latest Crime Report Bengali Newspaper
বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইংরেজি, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

দুই শীর্ষ নেতার পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিভক্ত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ

দুই শীর্ষ নেতার পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিভক্ত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ


চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা-পাল্টা সমালোচনা ও বাক-বিতণ্ডার রেশ এখনো কাটেনি। গত সোমবার লালদীঘির ময়দানে সোনালী মত্স্য শিল্প সমবায় সমিতি আয়োজিত এক সমাবেশে সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বর্তমান সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন ও তিন সংসদ সদস্যের কঠোর সমালোচনা করেন। মেয়র নাছির উদ্দীনও পরদিন মঙ্গলবার ঐ সমালোচনার পাল্টা জবাব দেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী আবার পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে তার বক্তব্যে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেন।

জানা গেছে, লালদীঘির জনসভা থেকে বর্তমান মেয়রকে ‘খুনি’ আখ্যায়িত করে তাকে অপসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রস্তাব পাঠানোর ঘোষণা দেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। জবাবে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্যকে মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন ‘পাগলের প্রলাপ’ ও নগরীর বর্তমান উন্নয়ন দেখে তার ‘অন্তর্জালার বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেন।এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়ন প্রশ্নে দেশের ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ দুই নেতার এই বাগযুদ্ধে নগরীতে দুই নেতার সমর্থকদের বিভাজন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের অপরাপর সিনিয়র নেতারা বিষয়টিকে বিব্রতকর বিবেচনায় নীরবতা অবলম্বন করছেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর তীব্র সমালোচনার শিকার তিনজন এমপি যথাক্রমে শামসুল হক চৌধুরী, এমএ লতিফ এবং দিদারুল আলমের পক্ষ থেকেও সংবাদমাধ্যমে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। নগরীর সুশীল সমাজও এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও নগরীর উন্নয়ন প্রশ্নে দুই মেয়রের প্রকাশ্য বিরোধের ক্ষেত্রে সহনশীল আচরণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

তবে বর্তমান মেয়রকে ‘খুনি’ আখ্যায়িত করে সাবেক মেয়রের উক্তি ও বিভিন্ন বিরূপ বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র সমর্থক কাউন্সিলরগণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা আগামী শনিবার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেছেন, নগরবাসীর স্বার্থে জননেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য সময়োপযোগী।

আমি জনগণের কথা বলবোই: মহিউদ্দিন চৌধুরী

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার সকালে ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি জনগণের রাজনীতি করি, আমি জনগণের কথা বলবোই।’ তিনি জানান, ১০ এপ্রিল লালদীঘির সমাবেশটি কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ ছিল না। সমাবেশটি ছিল নগরীতে বর্ধিত হারে হোল্ডিং ট্যাক্স, বর্ধিত হারে ট্রেড লাইসেন্স ফি আরোপসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তে জনগণের মধ্যে যে ভোগান্তি হতে যাচ্ছে, তা প্রত্যাহারের দাবিতে। মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি কোনো দিন অন্যায় মেনে নিইনি। জনগণের উপর জুলুম মেনে নিইনি। চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামের জায়গা নষ্ট করে সেখানে সুইমিংপুল নির্মাণ কখনোই হতে দেব না। রক্ত দিয়ে হলেও প্রতিহত করবো। তিনি বলেন, বহু অন্যায্য কাজ হচ্ছে, কোনো কাজই কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে হচ্ছে না, অথচ ১৭ শতাংশ ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে। তিনি বর্তমান মেয়রকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি সারা দিন সিজেকেএস, চট্টগ্রাম বন্দরে বসে থাকেন। নগর ভবনে গেলে তাকে পাওয়া যায় না। সেই সাথে ব্যস্ত থাকেন তার চারটি স্টিভিডোর ব্যবসা পরিচালনায়।

আমি কোথায় খুন করেছি প্রমাণ চাই: মেয়র নাছির উদ্দীন

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নগর ভবনে গত মঙ্গলবার মেয়র নাছির বলেন, আমি কোথায় খুন করেছি তার প্রমাণ আমি চাই। মেয়র নির্বাচনে আমাকেই প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দিয়েছেন। এটি প্রশ্নাতীত। তিনি যেসব কথা লালদীঘির মাঠে বলেছেন- তা তিনি ফোরামে বলতে পারতেন। কারণ কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদিত যে সংগঠনের তিনি সভাপতি আমি তার সাধারণ সম্পাদক। নিজের সাফল্য প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আমার সবচেয়ে বড় সফলতা হলো আমার মেয়াদে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজন-প্রীতি হয়নি। উনার আমলে ঠিকাদার কর্মচারী সবই ছিল তার আত্মীয়-স্বজন। আর এখন তিনি মিথ্যাচার করছেন।

 

সিডর/শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৭ ইংরেজি