A Latest Crime Report Bengali Newspaper
রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

উদ্ধার হওয়া অর্থ আনতে ফিলিপাইন যাচ্ছে তদন্ত দল

bd_stolen_reserve_8677


বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে উদ্ধার হওয়া ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত আনতে ফিলিপাইনে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তদন্তকারী দল ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিরা।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে আইনজীবীর মাধ্যমে ফিলিপাইনের অর্থপাচার দমন কাউন্সিল (এএমএলসি) ও বাংলাদেশের প্রতিনিধির কাছে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কিম অং।

এই অর্থ আনতে রোববারের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ম্যানিলা পৌঁছবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব) জন গোমেজ।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের ব্যাপারে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপিনাসের-বিএসএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে আলোচনা করবেন।

এদিকে গতকাল শুক্রবার অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলো ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেমকেও তাদের কাছে থাকা অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দিতে বলেছেন দেশটির সিনেটের ‘ব্লু-রিবন কমিটির’ সদস্যরা।

ম্যানিলাভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম বিজনেস ওয়ার্ল্ড জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে আইনজীবীর মাধ্যমে ফিলিপাইনের অর্থপাচার দমন কাউন্সিল- এএমএলসি ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধির কাছে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কিম অং।

ম্যানিলায় বিএসএফের কার্যালয় থেকে ওই আইনজীবীর কাছ থেকে ১০০ ডলারের নোট ভর্তি একটি ব্রিফকেস গ্রহণ করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি ও চ্যান্সেরি প্রধান প্রবাশ ল্যামারোং ও এএমএলসির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া বাচায়-আবাদ।

এদিকে ডেইলি ইনকোয়ার জানায়,কিম অং ফেরত অর্থ ফেরত দেয়ার পর রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও একই পথ অনুসরন করতে বলেছে ব্লু রিবন কমিটির সদস্যরা।

শুক্রবার কমিটির সদস্য বাম অ্যাকুইনো বলেছেন, রিজার্ভ চুরির অন্যতম হোতা সোলারি ক্যাসিনোর মালিক কিম অং গত সপ্তাহে সিনেট কমিটির শুনানিতে ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি পর অন্য সুবিধাভোগিদেরও উচিত একই পথ অনুসরণ করা।

তিনি বলেন, আমাদের উচিত রিজার্ভ চুরির টাকার অংশ যেসব জানকেট অপারেটর,ক্যাসিনো মালিক এবং অনান্য প্রতিষ্ঠান পেয়েছে তাদের তা ফিরিয়ে দিতে রাজি করানো। কারণ এটাই হচ্ছে সর্বোত্তম পন্থা।

কমিটির অন্যতম সদস্য রালফ রেকটো বলেছেন, জুয়াড়িদের কাছে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করে চুরির এ টাকা পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বপালনকারী বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের পালা এবার।
বিলি বন্টনের পর যে টাকা তাদের প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্টে রয়েছে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। এ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে এ কারণে যে,ফেরত পাওয়া সমুদয় অর্থ বুঝিয়ে দিতে হবে বাংলাদেশকে।

কমিটির চেয়ারম্যান তিওফিসতো গুইনগোনা বলেছেন, কিম অং ফেরত দেয়া ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নয় আরো বেশি অর্থ উদ্ধার করে তা বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

ফিলিপাইনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর বিদেশীদের আস্থা ফেরাতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির এ টাকা উদ্ধার জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গত ৪ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভের ১০০ কোটি ডলার চুরির চেষ্টায় ৩৫টি ভুয়া সুইফট কোড পাঠায় হ্যাকাররা।

এর মধ্যে ৩০টি আটকে গেলেও একটি কোডের মাধ্যমে ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলংকার প্যান এশিয়া ব্যাংকের শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে। চারটি কোডের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি)চারটি অ্যাকাউন্টে।

ডয়চে ব্যাংকের মাধ্যমে শ্রীলংকায় যাওয়া অর্থ স্থানান্তরের সময় শালিকা ফাউন্ডেশনের বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হলে ডয়চে ব্যাংক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চায়।এতে বেরিয়ে আসে,অর্থ স্থানান্তরের অনুরোধটি ছিল ভুয়া।এ কারণে ওই অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দেয় ওই ব্যাংকটি।

 

সিডর/রবিবার, ৩ এপ্রিল ২০১৬ ইংরেজি