A Latest Crime Report Bengali Newspaper
সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইংরেজি, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বাবা-মাকে লোভ দেখিয়ে শিশুদের ‘ভুয়া’ বিয়ে ও যৌন নির্যাতন

1490151663


ভারতে বাবা-মাকে টাকার লোভ দেখিয়ে এবং শিশু মেয়ের ভাল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘ভুয়া’ বিয়ে এবং সেই শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের এক নতুন চিত্র তুলে এনেছে সিএনএন। আন্তর্জাতিক এই গণমাধ্যমটি এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানায়, বিশেষ একটি চক্রের মাধ্যমে প্রতি বছর কয়েক’শ ভারতীয় মেয়ে শিশু ও তাদের পরিবার এই ধোঁকার শিকার হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারগুলো বিষয়টি জেনেও নিজ ঘরের মেয়েদের এই ‘ভুয়া’ বিয়ের নামে বিক্রি করে দিচ্ছে।
প্রতিবেদনটি এই ঘটনায় শিকার মুনিরা বেগম নামের এক নারী জানায়, ১২ বছর বয়সে ওমান থেকে আসা এক ব্যক্তির সঙ্গে আমার বিয়ে দেয়া হয়। ঐ ব্যক্তিটি আমাকে এক হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে সে প্রতিদিন কয়েকবার করে আমাকে ধর্ষণ করে। আমি যখন চিৎকার করে কান্নাকাটি করছিলাম, তখন সে ধমক দিয়ে বলে, ‘তোর বাবা-মাকে টাকা দিয়ে তোকে কিনে এনেছি। এখন আমি যা খুশি তাই করতে পারি এবং যতক্ষণ খুশি ততক্ষণ করতে পারি।’
মুনিরা জানায়, সে দুই মাস আমাকে ঐ ঘরটিতে আটকে রাখে। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সে আমাকে ভিতরে তালা দিয়ে বের হত। আর ফিরে এসে আবারো একই কাজ করত বারবার।
৭০ বছর বয়সী এই ওমানে কর্মরত ভারতীয় নাগরিক যেমন হঠাৎ করে এসে তাকে বিয়ে করে ‘যৌন দাসী’ হিসেবে ব্যবহার করেছে, তেমনি আরো অনেক নারী রয়েছে ভারতের হায়দ্রাবাদে। এই ঘটনার শিকার বেশি হচ্ছে ভারতের এই রাজ্যের মুসলিম দরিদ্র শ্রেণী। এই ব্যক্তি দুই মাস পর মুনিরাকে ফেলে রেখে চলে যায় এবং ফোনের মাধ্যমে ডিভোর্সের কথা জানায়।
সিএনএন জানায়, এটি এক বড় পরিকল্পনার অংশ। একটি চক্র ভারতে এমন দরিদ্র পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করে। তারপর নিজেদের গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ‘ভুয়া’ বিয়ে ও ‘ভুয়া’ ডিভোর্সের কাজ সম্পন্ন করে। পরিবারকে টাকা দিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে বিয়ের জন্য রাজি করা হয়। বিয়ে করা হয়ে গেলে গ্রাহক যতদিন মেয়েটিকে ব্যবহার করতে চায়, ব্যবহার করে। এরপর মেয়েটির ওপর থেকে গ্রাহকের মন উঠে গেলে একদিন মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে ফেরত দিয়ে আসে এবং তার কিছুদিন পর ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দেয়া হয়।
হায়দ্রাবাদ পুলিশ জানায়, এই চক্রটি সম্পর্কে আমরা কিছুদিন আগে জানতে পেরেছি। আমরা তাদের ধরার জন্য চেষ্টা করছি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সাহস করে সামনে এগিয়ে আসছে না।
একই কথা জানায় মুনিরা বেগম। তার দুই মাসে ‘বিয়ে’ শেষে একটি মেয়ের জন্ম হয়। তাকে নিয়েই এখন মুনিরার জীবন। কিন্তু ওমান থেকে এসে তাকে বিয়ে করা ঐ ব্যক্তি বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে গিয়েছে সে এবং পুলিশও মুনিরার ‘স্বামী’কে খুঁজে বের করার জন্য কাজ করছে। সিএনএন।