A Latest Crime Report Bengali Newspaper
রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি, ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী ভূমিহীন কৃষানী আঙ্গুরী বেগম

6


zaty6ফরিদপুরে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক। তাদের মধ্যে ভূমিহীন কৃষানী আঙ্গুরী বেগম অন্যতম। আঙ্গুরী বেগম ১ একর ২৬ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন ধরনের সবজি খামার। সবজি চাষ করে তিনি এখন সাবলম্বী। তিনি সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা চেয়েছেন সরকারের কাছে। সহজ শর্তে ঋণ পেলে আগামতে আরও বেশী বেশী সবজি চাষ করতে পারবেন তিনি।

আঙ্গুরী বেগমের উৎপাদিত সবজি এখন এলাকার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী হাট-বাজারেও বিক্রি হচ্ছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের তাহের ফকিরের ডাঙ্গীতে বাড়ি ছিল আঙ্গুরী বেগম এর। কয়েক বছর আগে বাড়িটি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। পরবর্তিতে জেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের পূর্ব বিলমামুদপুর গ্রামের মতিন শেখ এর ১ একর ২৬ শতাংশ পরিত্যাক্ত জমি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ৫ বছরের জন্য লিজ নেন। লিজ কৃত জমির এক অংশে একটি দো-চালা ঘর করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন। বাকী পতিত জমিতে শুরু করেন সবজি চাষ। চলতি বছর অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারনে বেগুন, মরিচ ও টমেটো খেতের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানালেন আঙ্গুরী বেগম। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে শুরু করেন ফুল কপি চাষ।

চারা রোপনের ৬০ দিনের মধ্যেই ফুলকপি বাজারে তুলেছেন। আংগুরী বেগম জানালেন, ৩ টি পল্ট এর মাধ্যমে মোট ৩৬ শতাংশ জমিতে ফুল কপি চাষাবাদ করেছেন। এর মধ্যে ১২ শতাংশ জমিতে আগোর ফুল কপি চাষ করে বাজারে বিক্রি করছেন। দামও পাচ্ছেন ভাল। প্রতিমন ফুলকপি ১ হাজার টাকা দরে বিক্রয় করছেন। ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকে এসে ফুলকপি নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক সময় পার্শ্ববর্তী বাজারেও বিক্রি করছেন স্বামী মাইউদ্দিন। ৩৬ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করতে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। ১২ শতাংশ জমির ফুলকপি বিক্রিয় করেছেন এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা। বাকী ১৮ শতাংশ জমির ফুলকপি এখন বিক্রয় শুরু করছেন। ফলন হয়েছে ভাল। একটি কপি ২ থেকে আড়াই কেজি ওজন হয়েছে। আঙ্গুরী বেগম এর ক্ষেতে এখন প্রায় আড়াইশ মন কপি আছে।

এখন আগের চেয়ে বাজার মূল্য কম হলেও প্রায় ১ লাখ টাকা বিক্রয় করতে পারবে বলে জানান এই কৃষানী। শুধু ফুল কপিই নয়, শশা, ঢেড়শ, টমেটো সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী এখন আঙ্গুরী বেগম। তবে এই ভূমিহীন নারী সহজ শর্তে সরকারের কাছে ঋণ সহায়তা চেয়েছে। ঋণ পেলে তিনি আগামীতে আরও বেশী বেশী সবজি চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন। আঙ্গুরী বেগমের স্বামী মাইনউদ্দন শেখ বলেন, নদীর গর্ভে বাড়ি-ঘর বিলিন হওয়ার পর এই এলাকায় এসে জমি লিজ নিয়ে বসবাস করছি। আমি ছোট একটি চাকুরী করার কারনে বাড়িতে থাকতে পারিনা। আমার স্ত্রী নিজে কস্ট করে খেত-খামার করে। ব্যাপারিরা বাড়ি থেকে এসে নিয়ে যায়। অনেক সময় আমিও সকালে পার্শ্ববর্তী বাজারে নিয়ে বিক্রি করি।

প্রথম ধাপে ফুল কপি বিক্রয় করে বেশ ভাল করেছি। এখনও জমিতে আড়াইশত মনের উপরে ফুল কপি আছে আসা করছি ভালই বিক্রয় করতে পারব, তবে এখন দাম অনেক কমে গেছে। তার পরেও লাভ থাকবে। বায়তুলআমান বাজারের ব্যবসায়ী লালন, বাবলু জানায়, আঙ্গুরী বেগম এর ফুল কপি অনেক ভাল হয়েছে। আগে আমরা যশোর থেকে ফুল কপি এনে বিক্রয় করতাম। এ বছর আর যশোরে যাওয়া লাগছে না। জাগায় বসে ফুল কপি পাই। অনেক ভাল কপি হইছে। কৃষক ভাল দাম পাইতেছে। আমরাও বেচে লাভবান হচ্ছি।

কৃষি সম্প্রসারনের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জি. এম. আব্দুর রউফ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, পুরুষের পাশা-পাশি অনেক নারী এখন সবজি আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করছে। তাদের সবজি আবাদে কৃষি বিভাগ থেকে সবধরনের সহযোগতা করছি। আঙ্গুরী বেগম এর সবজি চাষ দেখে এলকার অনেকেই এখন সবজি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে। গ্রামের ভূমিহীন এ সকল কৃষকদের স্ববলম্বী করতে হলে অবশ্যই সরকারের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন ফরিদপুরবাসী।

সিডর/১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬