
সিডর বিডি, অনলাইন ডেস্কঃ
গতকাল শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
অতীতের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী স্বৈরাচার যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছে, আমরা সেভাবে দেশ পরিচালনা করব না।
প্রত্যেকবারই দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বিএনপি উদ্ধার করেছে—এমন বক্তব্য তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রত্যেকবার এই দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গেছে, প্রত্যেকবার আপনারা কখনো শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে, কখনো দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আস্তে আস্তে সেই খাদের কিনারা থেকে দেশকে আবার বের করে নিয়ে এসেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সূত্রের খবর বলছে, এই ষড়যন্ত্রগুলো এখনই থামবে না।
ষড়যন্ত্রকারীদের পিছু হটানোর ক্ষমতা ও শক্তি একমাত্র বিএনপির আছে বলে দাবি করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের সময় এসেছে আমি কী পেলাম এটা বাদ দিতে হবে। সময় এসেছে আমি দেশ এবং জাতির জন্য কতটুকু করতে পারলাম। সময় এসেছে নিজে কী পেলাম এটা ভুলে যাওয়ার। আজ আপনি যদি দেশ এবং জাতির জন্য কিছু করেন কিংবা করতে পারেন, কী দিতে পারলাম, কী দিচ্ছি দেশকে এবং জাতিকে, তাহলে আগামী দিনে আপনার সন্তান, আপনার নাতিপুতি এরা ভালো থাকবে। আপনার ভবিষ্যৎ বংশধর ভালো থাকবে। আসুন আমাদের লক্ষ্য হোক দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করা।’
যুদ্ধে নামতে হবে, এটা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। দয়া করে আসুন, এই যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে, এই যুদ্ধে জেতার সবচেয়ে বড় সহযোগী কে? বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আপনাদের সহযোগিতা চাই। ইনশাআল্লাহ আমরা পারব। দেখা হবে যুদ্ধের মাঠে, দেখা হবে সংগ্রামের মাঠে, দেখা হবে আপনাদের সঙ্গে ভোটের ময়দানে।’
তিনি বলেন, ‘প্রবাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলে দিয়ে গিয়েছেন। আমরা ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে প্রবাসে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করব, তাতে দেশের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন হবে।’
খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষাব্যবস্থা, বেকার সমস্যা, তথ্য-প্রযুক্তি, বায়ু ও পানিদূষণ রোধ প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপির প্রণীত পরিকল্পনাগুলো এবং তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।
শহীদ বুদ্ধিজীবীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ : শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নিহত শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তাঁদের বিদেহী রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁদের জীবন ও কর্ম আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।’ গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে তারেক রহমান এই বাণী দেন।
তিনি বলেন, দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা দেশকে মেধাশূন্য করার গভীর চক্রান্ত। কারণ ছিল স্বাধীনতার বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করা। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা আজও সারা জাতিকে বেদনাবিধুর করে। তবে তাঁদের রেখে যাওয়া আদর্শ অর্থাৎ জ্ঞানবিজ্ঞান, মুক্তচিন্তা, ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সম্প্রীতির চেতনা উন্নত ও প্রগতিশীল দেশ গড়ার প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে।
তারেক রহমান আরো বলেন, অর্ধশতাব্দী পার হলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। গণতন্ত্র বারবার মৃত্যুকূপে পতিত হয়েছে। একদলীয় দুঃশাসনের বাতাবরণ তৈরি করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ প্রতিহত করা হয়েছে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং বহু পথ ও মতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ বাস্তবায়িত হবে।