
সিডর বিডি, অনলাইন ডেস্কঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক প্রচার প্রচারণা ও সভা-সমাবেশ শুরু করেছে। এর মধ্যে বিএনপি প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও থেমে নেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থীরা। তবে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে আসনটি ছাড় দিতে পারে—এমন গুঞ্জন তীব্র হচ্ছে। এরই মধ্যে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফায় বাগিবতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে প্রশাসনকে। প্রার্থিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, ‘এখনো জোটের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।’ এদিকে এ আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। আসনটিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোট দিতে নারাজ জোটের প্রার্থীকে।
জেলায় মোট চারটি সংসদীয় আসন রয়েছে। এই চারটি আসনই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে ধরা হতো। তবে ১৯৯৬ সালের একতরফা নির্বাচনে চারটি আসনেই বিএনপি বিজয়ী হয়েছিল। অবশ্য ঐ সংসদ মাত্র ১৩ দিনের মাথায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকার সুযোগ নিতে চায় বিএনপি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান টোটন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের পটুয়াখালী জেলায় একটি আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। এর মানে জোট হবে এরকম না। আমরা জানি, বিএনপি এবার চারটি আসনেই দলীয় প্রার্থী দেবে এবং চারটি আসনেই আমরা নির্বাচনে বিজয়ী হব।’
পটুয়াখালী–১ : পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকিসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে এই আসনটি গঠিত। এ আসনটি বরাবরই ছিল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দখলে। তবে এই আসনটিতে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী একবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাকেই আবার মনোনয়ন দিয়েছে। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ থেকে শহিদুল ইসলাম (ফাহিম), বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান ও বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র থেকে মুফতি হাবিবুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আসনটিতে এনসিপির পক্ষ থেকেও দুটি মনোনয়ন ফরম কেনার কথা শোনা গেছে।
পটুয়াখালী–২ : এই আসনটিতে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে শহিদুল আলম তালুকদার একবার বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারও দল তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। এ আসনটিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে হবে ভোটের লড়াই। এছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন থেকে মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারী, গণঅধিকার পরিষদের হাবিবুর রহমান ও এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম সাহীনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী–৩ : গলাচিপা ও দশমিনাসহ দুটি উপজেলা নিয়ে এই আসনটি গঠিত হয়েছে। এ আসনটিতে বিএনপি কখনোই বিজয়ী হতে পারেনি। আসনটি বরাবরই ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে নিয়ে এ আসনটি এবার উদ্ধার করতে পাড়বে বলে আশাবাদ বিএনপি দলীয় নেতা কর্মীদের। এই আসনটিতে হাসান মামুন ছাড়া বিএনপির অন্য কোনো শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী নেই। কিন্তু এ আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী না দিয়ে ‘হোল্ড’ করে রেখেছে।
হাসান মামুন ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত ৪৬ বছর এখানে আমরা কোনো সংসদ সদস্য পাইনি। জাতীয় স্থায়ী কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি আমাদের পুরোপুরি আস্থা আছে। যদিও তারা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। আশা করি, দলের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিবেন না।’ গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ-আলম শানু ইত্তেফাককে বলেন, ‘কেন্দ্র কীভাবে নমিনেশন দেয় তা আমরা জানি না। কিন্তু দলীয় প্রার্থীর বাইরে বিকল্প আমরা মেনে নেব না। হাসান মামুনকে আমরা এই আসনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি।’
জানা গেছে, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের জন্মস্থান গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে। ইতিমধ্যেই নুর তার এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি কয়েকটি নির্বাচনি জনসভাও করেছেন। নুরুল হক নুর ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমাদের ৩০০ আসনের প্রার্থীদের সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যে সমস্ত জায়গায় নেতারা কাজ করেছে, তারা একটা অবস্থান তৈরি করেছে, সে আসনগুলোতে সমঝোতা না হলে জোটবদ্ধ হওয়া সম্ভব হবে না। তবে এখনো বিএনপির সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।’ এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক শাহ-আলম ও বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আবু বকর সিদ্দিক।
পটুয়াখালী–৪ : কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী এই দুই উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত হয়েছে। এ আসনটিতে রয়েছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা, দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দর ও তাপ বিদ্যুেকন্দ্র। এছাড়া রয়েছে পর্যটন স্পট জাহাজমারা ও সোনারচর। এই আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশারেফ হোসেন। তার বিপরীতে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন এবং ১৯৯০-৯৭ সাল পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪-এর পরে তিনি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনে যোগদান করেন। তবে এ আসনটি এবার মোশারেফকে নিয়ে বিএনপি উদ্ধার করতে পারবে বলে আশাবাদী তৃণমূল বিএনপি। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ থেকে রবিউল হাসান ও জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আব্দুল কাইউমকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।